পারস্পরিক অবিশ্বাস ও অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। জামাতের সাথে অন্য ইসলামী দলের জোট টিকবে কী না? তাদের বড় ভাই সূলভ আচরণ নিয়ে শায়খে চরমোনাই অনেক কথাই বলেছেন গত কয়েকদিন ধরে। ইসলাম ও দেশের পক্ষে ‘একবাক্স’ নীতি শেষ পর্যন্ত আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না সেটা নিয়ে রয়েছে সংশয় । এই সমঝোতার জোটের সূচনাতেই আসন ভাগাভাগি নিয়ে ফাইনলা কথা পরিস্কার করে নিলে আজ এই দন্ধ-সংশয় তৈরি হতো না, একতরফা কেউ কিছু চাপিয়েও দিতে পারতো না। ভাঙ্গনের যে আওয়াজ তা এতদূরে তিক্ততায় গড়াতো না।
যদিও জনসাধারণের মনের একটি দাবী ছিল ইসলামপন্থীদের একটি শক্তিশালী বাক্স এই নির্বাচনে থাকবে। কিন্ত জামাত বিএনপির সাথে জাতীয় সরকারের চিন্তা করলে বা ভারত বলয়ে ক্ষমতার রাজনৈতিক মেরুকরণে এগোলে, আর সমঝোতা বহাল না থাকলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিরেট ইসলামি রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মতো দলগুলো।
চরমোনাই পীর সাহেবের দল ইসলামী আন্দোলনের ১৫০ আসনে এবছর শক্ত লড়াইয়ের সক্ষমতা ছিল। ইসলামী আন্দোলনে জাতীয় রাজনীতি থেকে বেশ কয়েকজন সাবেক এমপি, শিল্পপতি এবছর যোগ দিয়েছিলেন নমিনেশন পাওয়ার আশায়। তারা নমিনেশন না পেলে এখানে থাকবেন না। সেখানে সমঝোতার ভোটের রাজনীতিতে তারা ৫০ আসনও পাচ্ছেন না। এনিয়ে দলের ভিতর থেকেই সতন্ত্র নির্বাচনের দাবী প্রকট হচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম এসেছিলেন চরমোনাইর অফিসে। ৫০ আসনের কথাও হয়েছিল। কিন্তু আলাদা ইসলামী জেটের চিন্তা মাথায় রেখে চরমোনাইর পীর সাহেব বিএনপি জোটের সমঝোতায় জাননি। কিন্তু জামাতের সাথে আস্থা নষ্ট হওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত ২৭২ আসনে নমিনেশন দাখিল করেছে ইসলামী আন্দোলন। এখন যদি জাতীয় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক দাবার গুটিতে জামাত তার অবস্থানে ছাঁড় না দেয় তাহলে ইসলামী আন্দোলন বের হয়ে যায় তাহলে রাজনৈতিক মেরুকরণে দলটি সাময়িক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে শরীকদের সাথে টানাপোড়নপর কারণে ২৮০টির মতো আসনে জামাত প্রার্থী দিয়েছে। জামাত একাই নির্বাচনী সক্ষমতা আছে এটি বুঝাচ্ছে। তারা কওমী ঘরনার যে সর্মথটুকো এখন পাবে এটি তাদের বাড়তি লাভ। এমনকী চরমোনাইর পীর সাহেবের আসনেও তারা নমিনেশন দাখিল করেছে। এতে সহজেই অনুমেয় ভিতরগত আস্তা ও দূরত্ব কতটা প্রকট হচ্ছে। যদি ইসলামি জোট এর আস্থার জায়গাটি নষ্ট না হতো তাহলে জামাত ১৫০/২০০ আসনের বেশি নমিনেশন দাখিল করার কথা নয়। এখন প্রশ্ন হলে এনসিপি,এলডিপির মতো স্যাকুলার দলগুলোর সাথে তালগুল মিলিয়ে এই ইসলামি জোটের সমঝোতার রাজনীতি কতদূর! না কী পর্দার আড়ালে রাজনৈতিক অন্যকোন খেলা চলছে। যার ফলে শেষমেশ এই সমঝোতায় আশার বালি পরবে?
আল্লামা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে বিএনপি ১২টি আসন দেয়ার প্রস্তাব করেছিল। মামুন ভাই সহ অন্তত ৫/৬ টি আসনে জিতে আসা তখন সম্ভব ছিল। অনেকে মনে করেছিলেন জাতীর ক্লান্তি লগ্নে সংসদে আলেম উলামাদের প্রতিনিধি থাকা বেশি প্রয়োজন ছিল। এবছর জাতীয় রাজনীতিতে দলটি ভালো কিছু করার সম্ভাবনাময় একটি সময় ছিল। দলটির একটি উত্থান সময় পার করেছিল। জামাতের প্রতি আস্থা থাকার কারণে অধিকাংশ আসনেই আলাদয় নমিনেশন দাখিল করতে পারে নি। এখন যদি কোন কারণে দলটি জামাত জোট থেকে বাহিরে একক নির্বাচন করলে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে আমাদের পাশা ভাই ( সাবেক এমপি শাহিনূর পাশা চৌধুরী) রাজু ভাই ( মুসলেহ উদ্দীন রাজু), মিজান মোল্লাদের মতো আরো ডজ্জনখানেক প্রার্থী ছিলেন, যারা এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ে সহজে জিতে আসতে পারতেন। কিন্তু রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক দাবার চালে তারা বঞ্চিত হলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে তারা শেষ পর্যন্ত থাকবেন না। এতে দলটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পরবে।
খেলাফত মজলিস একটি সম্ভাবনাময় ইসলামী রাজনৈতিক দল। ৫০ টি আসনে তাদের ভালো প্রার্থী থাকার পরেও নমিনেশন দাখিল করতে পারে নি এসব আসনে। যে কয়টি আসনে দাখিল করেছে সেখানেও সমঝোতায় পিছিয়ে পরছে দলটি। ৫/৭ টি আসন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে জামাতের রাজনীতির কাছে। জামাত নিজেদের শক্তিশালী ইসলামি দল ও ক্ষমতার রাজনীতির দারপ্রান্তে মনে করে বসে আছে। তাই এই বিশ্লেষণ থেকে আমি বলেছি জামাত জোটে ইসলামি দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ এখন বের হয়ে আসলে আম ছালা দুটিই যাবে। একথায় আবেগী অনেক লোকজন চ্যাতাচ্যাতি করছেন, কিন্তু রাজনৈতিক ম্যারপ্যাচ আর আত্মসমালোচনার জগতের সাথে তারা পরিচিত নন।
তবুও জনতার প্রত্যাশা এবন্ধন অটুট থাকুক
সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ
সম্পাদক
ন্যাশনাল টাইমস 24 ডটকম